সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

শাল্লায় মাদারিয়া বাঁধে ফাটল, জয়পুরে নেই পিআইসি, ঝুঁকির মুখে ছায়ার হাওর

  • আপলোড সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৮:১৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৮:১৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শাল্লায় মাদারিয়া বাঁধে ফাটল, জয়পুরে নেই পিআইসি, ঝুঁকির মুখে ছায়ার হাওর
জয়ন্ত সেন :: দাঁড়াইন নদীর তলদেশ অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। তার উপর নদীর দু’পাড়ও হয়ে গেছে সংকুচিত। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি ধারণ করার সক্ষমতাও দিন দিন হারিয়ে ফেলতে বসেছে নদীটি। ওই নদীর পাড়ঘেঁষেই হাঁ করে বসে আছে রাক্ষসী মাদারিয়া বাঁধ। একসময়ের আতঙ্কের নামই ছিল এই মাদারিয়া। বাঁধ রক্ষা করতে করা হতো মাইকিং। উপজেলাবাসী উড়া-কোদাল নিয়ে আসত এই বাঁধ রক্ষা করতে। রাতদিন মাটি কাটতে হতো হাজারো কৃষকদেরকে। এগুলো ২০১৭সালের পূর্বের কথা। সেই ছায়ার হাওরের অন্তর্গত মাদারিয়া বাঁধের গোড়ায় এবার বড়ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর পানি ধীরেধীরে কমতে শুরু করায় ফাটল ক্রমেই বড় হচ্ছে। বৃষ্টি হলে এই ফাটল ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ফলে বাঁধের গোড়া আরও দুর্বল হয়ে ভেঙে যেতে পারে বাঁধ। বাঁধে ভাঙার আরেক কারণ বাঁধের পশ্চিম অংশের গোড়া রয়েছে ৬০ফুট গভীরতা। একই অবস্থা বাঁধের পূর্বদিকেও। স্থানীয়রা কৃষকরা বলছেন, এখনই বাঁধের দু’পাশে নতুন করে বাঁশের আড় ও ফাটলের জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট না করলে এ বাঁধের উপর ভরসা করা যায় না বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে উদগল হাওর ডুবে গেলেই ছায়ার হাওরকে আর বাঁচানো যাবে। ফলে ছায়ার হাওরেকে রক্ষা করতে উদগলবিল হাওরে প্রায় কোটি টাকার বিকল্প বাঁধ দিতো পাউবো। কিন্তু এবছর দিরাই উপজেলার জয়পুর গ্রামের ক্লোজারে কোন প্রকল্প দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে এদিকেও ঝুঁকিতে রয়েছে ছায়ার হাওর। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যুক্তি প্রকল্পের ব্যয় কমানোর জন্যই জয়পুরে পিআইসি দেয়া হয়নি। এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তেই বাদ দেয়া হয়েছে। এদিকে মাদারিয়া বাঁধের ৫৭নং পিআইসির সভাপতি আব্দুল আজিজ তালুকদার বলেন, মাদারিয়া বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ এটি এলাকার সবাই জানে। বাঁধের পূর্ব পশ্চিমে ডুয়ার। এরমাঝে বাঁধের পূর্বদিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমার পিআইসির বরাদ্দ দিছে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এরমধ্যে আমি আনন্দপুর খেলার মাঠ থেকে হাইওয়ে সড়ক পর্যন্ত ২০০ মিটার বাঁধের কাজ করেছি। সুখলাইন গ্রামের বাঁধেও কাজ করেছি। এখন ফাটল বন্ধ করতে ও বাঁশের আড়ি দিতে গেলে এখন আমার জমি বিক্রি করতে হবে। অথচ মাদারিয়া বাঁধে অন্যান্য বছর ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হত। বাঁধের উভয়পাশে গত বছরের বাঁশের আড়ির গোড়া পচে গিয়ে ভেঙে গেছে বাঁশের আড়ি। আমি কী করব বলুন। জানা যায়, ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের ৫৭নং পিআইসির ১৭৬ মিটার বাঁধ মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা (এসও) রিপন আলী বলেন, তাদের বাঁধে ১ ফুট মাটি ধরা হয়েছে। আজকালের মধ্যে গিয়ে আমি দেখে আসব। প্রয়োজনে নতুন বাঁশের আড়ি ও ফাটলকৃত জায়গায় টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান তিনি। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলে বাঁধকে টেকসই করার জন্য কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। পাউবো’র তথ্য মতে এখন পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৭০ভাগ মাটি কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। দ্বিমত পোষণ করে হাওর বাঁচাও আন্দোলন উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন, আমাদের সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্যদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ ভাগ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। মাদারিয়া বাঁধকে টেকসই করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা না করলে যেকোন দুর্ঘটনার দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই নিতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ফসলরক্ষায় ৮৪ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতে ১১৫টি পিআইসি’র বিপরীতে বরাদ্দ প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স